যেদিকে থুথু ফেলা যাবে না!
চারটি দিক রয়েছে। এগুলো হলো পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর এবং দক্ষিণ। মুসলমানরা কিবলার দিকে প্রার্থনা করেন। পবিত্র নগরী মক্কায় কিবলার অবস্থান। এই স্থানটি পৃথিবীর মধ্যভাগে অবস্থিত। যার জন্য পৃথিবীর একেক দেশ থেকে একেক দিকে কিবলা হয়। কারো কিবলা পড়ে পূর্ব দিকে, কারো পশ্চিম দিকে, কারো উত্তর দিকে আবার কারো দক্ষিণ দিকে।
ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশ থেকে কিবলা পড়ে পশ্চিম দিকে। যার জন্য এই অঞ্চলের লোকেরা পশ্চিম দিকে প্রার্থনা করে থাকেন। তাই পশ্চিম দিকটি মুসলমানদের জন্য অত্যান্ত সম্মানিত। এজন্য কেবলার দিকে মানে পশ্চিম দিকে থুথু ফেলা নিষিদ্ধ কাজ, এটি আমরা কি জানি?
“যে ব্যক্তি কেবলার দিকে থুথু ফেলবে, কিয়ামতের দিন সকল মানুষের সামনে তার কপালে সেই থুথুগুলো লাগিয়ে দেয়া হবে। সব মানুষ তাকে দেখে চিনবে যে, সে কেবলার দিকে থুথু ফেলানোর মতো অপরাধ করেছিলো, তাই তার এই শাস্তি।”
ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “কিবলার দিকে যে কফ্ ফেলে তার চেহারায় ঐ কফ্ থাকা অবস্থায় সে ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত করা হবে।” (বাযযার ৫৯০৪, ইবনে খুযাইমাহ ১৩১৩, ইবনে হিব্বান ১৬৩৮, সহীহ তারগীব ২৮৫)। হাদীসটি এসেছে ইবনে খুযাইমা ও ইবনে হিব্বানে। হাদীসটি বিশুদ্ধ।
অন্য একটি হাদীসে উল্লেখ আছে- আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) কিবলার দিকে দেওয়ালে থুথু দেখিতে পাইয়া উহাকে ঘষিয়া তুলিয়া ফেলিলেন। তারপর তিনি মুখমÐল লোকের দিকে করিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ তোমাদের কেউ যখন নামায পড়ে, সে যেন সামনের দিকে থুথু না ফেলে। কারণ যখন নামায পড়ে তখন অবশ্যই সামনের দিকে আল্লাহ্ তা'আলা থাকেন।
জানা দরকার নামায ছাড়া অন্যান্য অবস্থাতেও কেবলার দিকে থুথু বা কফ্ ফেলা বৈধ নয়।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলার দিকে (দেওয়ালে) থুথু দেখতে পেলেন- এটা দেখে তাঁর মন খুব ভারী মনে হল; এমনকি তাঁর চেহারায় সে চিহ্ন দেখা গেল। ফলে দাঁড়ালেন এবং তিনি তা নিজ হাত দ্বারা ঘষে তুলে ফেললেন। তারপর বললেন, তোমাদের কেউ যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন সে তার প্রতিপালকের সাথে কানে কানে (ফিসফিস করে কথা) বলে। আর তার প্রতিপালক তার ও কেবলার মধ্যস্থলে থাকেন। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন কেবলার দিকে থুতু না ফেলে; বরং তার বামে অথবা পদতলে ফেলে। অতঃপর তিনি তাঁর চাদরের এক প্রান্ত ধরে তাতে থুথু নিক্ষেপ করলেন। তারপর তিনি তার এক অংশকে আর এক অংশের সাথে রগড়ে দিয়ে বললেন, কিংবা এইরূপ করে।’’ (বুখারি, মুসলিম, নাসায়ি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, আহমদ, দারেমি)
তবে জানা দরকার বাম দিকে অথবা পায়ের নিচে থুতু ফেলার নির্দেশ তখন পালনীয়, যখন নামাজ, মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও (মাটিতে) হবে। পক্ষান্তরে নামাজ মসজিদে হলে কাপড়ে (অথবা টিসুতেই) থুতু (শ্লেষ্মা ইত্যাদি) ফেলতে হবে।
যদি হাঁটতে হাঁটতে না জেনে কেবলার দিকে থুতু ফেলেন, তাহলে সেটি হারাম হবে না। কিন্তু যদি জেনেশুনে করেন, তাহলে হারাম হবে। পশ্চিম দিকে হাঁটতে থাকলেও তিনি ডানে-বাঁয়ে বা পেছনে থুতু ফেলবেন, কিন্তু কেবলার দিকে থুতু ফেলতে পারবেন না। জেনে-বুঝে করলে সেখানে যদি অবমাননা না-ও থাকে, তবুও সে এই কাজটি করতে পারবেন না।
আমরা যারা আগে থেকে জানতাম না, তারা এখন থেকে সাবধান হয়ে যাবো। সতর্কতার সাথে থুথু ফেলবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী- সবার কাছে এই তথ্যটি পৌঁছে দেবো।
আমাদের উচিত হবে, পূর্বে না জানার কারণে যত থুথু ফেলেছি সেজন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ও একনিষ্ঠভাবে তাওবাহ করা।


No comments